
বাংলাদেশকে একটি মানবিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু মানুষের প্রতি নয়, প্রকৃতি ও প্রকৃতির সৃষ্ট সবকিছুর প্রতিও মানুষকে সদয় হতে হবে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বড় হয়ে শিশুদের নিজেদের আশপাশের প্রকৃতির যত্ন নিতে হবে। বাড়ি, স্কুল কিংবা পছন্দের কোনো জায়গার আশপাশে থাকা গাছপালার পরিচর্যা করতে হবে। কোনো গাছ ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলে সেটিকে পানি দেওয়া ও যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে বড় হতে সহযোগিতা করতে হবে।
একইভাবে আশপাশের পশুপাখির প্রতিও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, এসব পশুপাখিও দেশের সম্পদ। তাই শিশুদের তাদের প্রতি সময় দিতে হবে এবং সম্ভব হলে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে হবে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি সদয় হওয়ার অনুভূতি ও বোধ তৈরি করতে হবে। প্রকৃতির সৃষ্ট পশুপাখির প্রতিও তাদের সহানুভূতিশীল করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সবাই মিলে শিশুদের মধ্যে এই অনুভূতি ও বোধ তৈরি করতে পারলে একদিন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। মানুষ প্রকৃতির প্রতি সদয় হলে প্রকৃতিও মানুষের প্রতি সদয় হবে। প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস করতে হলে প্রকৃতিকেও সহযোগিতা করতে হবে এবং প্রকৃতিকে তার স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে।
শিশুদের পরিবেশ সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এ বিষয়ে সচেতন হলে সুন্দর বাংলাদেশ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব। রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের অনেক মানুষ এখনো এ বিষয়ে অসচেতন। ব্যবহার করা প্যাকেট বা অন্যান্য জিনিস অনেকেই যত্রতত্র ফেলে দেন।
এ ক্ষেত্রে বড়দের সচেতন করার দায়িত্ব শিশুদেরও নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো বড় মানুষ যদি রাস্তায় ময়লা বা অব্যবহৃত কোনো জিনিস ফেলে পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে শিশুরা তাঁকে সঠিক জায়গায় ময়লা ফেলার কথা বলতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, একজন শিশু বড়দের বলতে পারে, ‘আপনি যদি পরিবেশ নষ্ট করেন, পরিবেশ ময়লা করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। আজকের শিশু হিসেবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। বাংলাদেশের কোটি কোটি শিশুও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
শিশুদের পরিবারের ভিত্তির সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ঘর তখনই মজবুত থাকে, যখন তার খুঁটিগুলো শক্ত থাকে। পরিবারের প্রতিটি শিশু সেই পরিবারের একটি খুঁটি। শিশুকে সুন্দর ও সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া গেলে পরিবারের ভিত্তি যেমন শক্ত হবে, তেমনি সামগ্রিকভাবে দেশও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে তিনি বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশের সব শিশুকে সঠিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারলে দেশ আরও মজবুত হবে। এর মাধ্যমে আগামী দিনে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশকে শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানসহ আরও অনেকে।



